বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১

লঙ্কাকান্ড অবলম্বনে ইন্দ্রজিতের নিকুম্বিলা যজ্ঞানুষ্ঠান ও যজ্ঞভঙ্গের বর্ণনা দাও

 

বাংলা অনার্স লঙ্কাকান্ড অবলম্বনে ইন্দ্রজিতের নিকুম্বিলা যজ্ঞানুষ্ঠান ও যজ্ঞভঙ্গের বর্ণনা দাও bangla honours longka kando obolombone indrajit nikumbila jogganushtan o joggo vonger bornona dao ramayan



  

                  প্রশ্নের মান - ৫/৬



প্রশ্ন : লঙ্কাকান্ড অবলম্বনে ইন্দ্রজিতের নিকুম্বিলা যজ্ঞানুষ্ঠান ও যজ্ঞভঙ্গের বর্ণনা দাও ।



উত্তর:- সর্বদাই মাতা মন্দদোরী কে প্রণাম করে ইন্দ্রজিৎ নিকুম্বিলা যজ্ঞাগারে যজ্ঞ করতে যান । যজ্ঞ সম্পূর্ন করে ইন্দ্রজিৎ কোনো যুদ্ধ করতে গেলে সেই যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ফিরে আসেন । কোনো রাজা তাকে পরাজিত করতে পারে না । যজ্ঞের সময় অসংখ্য নিশাচর তার যজ্ঞের সকল দ্রব্য সামগ্রী জোগাড় করে এনে দেয় । কেউ রক্তবর্ণের পুষ্পমালা , কেউ রক্তচন্দন , কেউ ঘৃতের কলস , কেউ আবার অসংখ্য পশু , বলী দেওয়ার জন্য এনে দেয় । হাজার হাজার ব্রামন যজ্ঞকুন্ডে অগ্নিসংযোগ করে মন্ত্র পড়তে থাকে । ইন্দ্রজিৎ সেই যজ্ঞের অগ্নিকুন্ডে , পশু , রক্তবস্ত্র , আতপ তন্ডুল , ঘৃত আহুতি দিতে থাকে । ফলে সেই যজ্ঞের অগ্নিশিখা দুর্জ্জয় মেঘের মতো বিকট শব্দ গর্জন করে উদ্ধর্ধ গগনে উঠতে থাকে । অগ্নিদেব এই যজ্ঞে প্রিত হয়ে ইন্দ্রজিৎ কে তার মনের মতো বর চাইতে বলে । অগ্নিদেবের কাছ থেকে মনের মতো বর গ্রহণ করে যুদ্ধ করতে অগ্রসর হয় ইন্দ্রজিৎ ।


[    ] ইন্দ্রজিৎ পিতা রাবণের আদেশ গ্রহণ করে রাম ও লক্ষণের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় । কখনও রাম লক্ষণ কে নাগপাশ অস্ত্রের দ্বারা নাগ পাশে বদ্ধ করে আবার কখনও লক্ষণকে বজ্যরের সমান অস্ত্র দিয়ে এবং রাম কে ক্ষুরপাশবত অধ্যচন্দ্র দুই বান দিয়ে আহত করে । তাদের অবস্থা মৃতপ্রায় অবস্থায় পরিণত হয় । হনুমান পর্বত থেকে বিশল্য করনি , মৃত সঞ্জীবনী , সঞ্চারিনি ও অস্থি সুবর্নকরনী ঔষধ এনে তাদের মৃত প্রায় প্রাণ ফিরিয়ে দেন । তারপর বিভীষণ ইন্দ্রজিৎ কে হত্যা করার জন্য লক্ষণ কে নিকুম্বীলা যজ্ঞাগারে নিয়ে আসেন । রামচন্দ্র লক্ষণ কে যজ্ঞাগারে আসতে নিষেধ করেন। কিন্তু বিভীষণ লক্ষণের শক্তির দূর্জ্জয় ক্ষমতার কথা বলে রামের দুশ্চিন্তা দূর করে লক্ষণ কে নিয়ে আসে যজ্ঞাগারে । হনুমান সহ বানর সৈন্যরাও আসে লক্ষণের সঙ্গে । হনুমান যজ্ঞগারে উপস্থিত হয়ে যজ্ঞের সামগ্রীক চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় ও পদাঘাতে যজ্ঞের আগুন নিভিয়ে দেয় । হনুমানের এইরূপ কান্ড দেখে ইন্দ্রজিৎ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে হনুমানের সঙ্গে সংগ্রামে রত হয় । ইন্দ্রজিৎ শত শত বান , জাঠি , শেল হনুমানের উপর ছুঁড়তে থাকে । হনুমান সেই সমস্ত অস্ত্র লাফ দিয়ে ধরতে থাকে , দুইজনের মধ্যে ভীষন মল্লযুদ্ধ হয় । তখন বিভীষণ দূর থেকে লক্ষণ কে নীকুম্বিলা যজ্ঞশালা দেখিয়ে বট বৃক্ষের তলায় আশ্রয় নিতে বলে আর যথা সময়ে ইন্দ্রজিৎ কে বধ করতে বলে । এইভাবে লক্ষণ বানর সৈন্যসহ হনুমান ইন্দ্রজিতের যজ্ঞভঙ্গ করে ।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন