সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১

কঙ্কাল গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় উল্লেখ করো প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক bengali honours কঙ্কাল গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় উল্লেখ করো প্রশ্নোত্তর konkal golper mul protipado bishoy ullekh koro questions answer


উত্তর:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “ কঙ্কাল ” গল্পের আমরা যে অশরীরী জীবন্ত চরিত্রটির দেখা পাই তা এক মর্ম বিধূর নারীর মন । যেখানে নারী মনস্তত্ত্বের সুক্ষ বিশ্লেষণ ঘটেছে চাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে । এখানে গল্পের মধ্য দিয়ে হঠাৎ গল্প শুরু হয়েছে অশরীরী নারীর বেদনাতুর কথার মধ্য দিয়ে , যে নারী জীবিত থাকাকালীন স্বামীকে ভয় করত , বিবাহের কিছু দিনের মধ্যে স্বামী মারা গেলে সে স্ত্রী “ বিষকন্যা ” হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং অবশেষে পিতৃগৃহে আশ্রয় নেই । এক্ষেত্রে স্বামীহারা রমণীর যেটা ঘটার কথা ছিল তার বিপরীতমুখী আচরণ দেখিয়ে গল্পকার নারী মনস্ত্বত্বের সূক্ষ দিককে ইঙ্গিত করেছেন ।




[     ] জীবিতকালে যে নারী অসাধারণ সুন্দরী , এখনকার “ কঙ্কাল ” দেখে সেই সৌন্দর্য অনুভব করা অসম্ভব এবং তখনকার দেহসৌন্দর্য দেখেও অনুমান করা সম্ভব ছিল না যে , এই দেহ একদিন অস্থিবিদ্যা শিক্ষার সহায়ক হতে পারে । একদিন তার চলা ফেরার প্রত্যেক গতিতে যে সৌন্দর্য বিচ্ছুরিত হতো তা আজ স্তম্ভ হয়ে গেছে  । জীবিত অবস্থা থেকে কঙ্কাল অবস্থায় পরিণত হওয়া বড়ো করুন , বড়ো ট্র্যাজিক। এই নারীর ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যুতে সে স্বস্তি পেয়েছে এবং অন্য নারীর মতো সে এটাকে ভাগ্যের পরিহাস বলে মেনে দিয়েছে এবং পিতৃগৃহে স্থান নিয়েছে । এদিক থেকে তার ব্যক্তি স্বাধীনতার দিকটিও প্রকাশ পায় ।



[       ] “ কঙ্কাল ” গল্পের প্রতিপাদ্য বিষয়বস্তুর দিকে নজর রেখে শিল্পী শিল্পিত জীবন রূপের  ইঙ্গিত দিয়ে যান গল্পের নামকরনে । কখন ব্যক্তি বিশেষের নামে , কখনও বা জটিল কাহিনীর ভাবনাকে ঘিরে ,  কখনও বা ব্যঞ্জনাধর্মী বিশিষ্টতায় নামকরণের প্রাসঙ্গিগতা উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে । “ কঙ্কাল ” গল্পের মধ্যেই নামকরণের মধ্যে দিয়ে কাহিনীর প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয় স্পষ্ট হয়েছে । আপাত জড় কঙ্কালের আড়ালে একদিন যে সজীব প্রাণের আকাঙ্ক্ষা শিহরিত হতো তার কাহিনী বলেছেন রবীন্দ্রনাথ । গল্পের কথক অশরীরী নায়িকার শরীরী জীবন ছিল অপূর্ব সুন্দরী । সেই সুন্দর দেহের আড়ালে যে কঙ্কাল আছে সেটাই একমাত্র সত্য নয় । জীবিত কালে সেই যৌবনময়ী তার আত্মহতী দিয়ে দাদার বন্ধু ড: শশিশেখর কে মোহমুগ্ধ করেছিল কিন্তু শশিশেখর অন্যত্র বিবাহের ব্যবস্থায় করায় অপমানিতা নারী প্রতিহিংসায় জর্জরিত বিষ প্রয়োগে শশীশেখর কে হত্যা করে এবং নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে ।



[      ] “ কঙ্কাল ” গল্পের পরিবেশ রচনায় রবীন্দ্রনাথ এক অভিনব ছোটগল্পের আঙ্গিক বিন্যাস সাধন করেছেন । গল্পের কাহিনী একটি বিধবা নারীর ব্যর্থ প্রেমের কাহিনী হলেও কৌশলে অভিনবত্বে রবীন্দ্রনাথ তাকে একটা ভিন্নতার মাত্রা দিয়েছেন । প্রচলিত প্লট নির্মাণের গতানুগতিকতায় “ কঙ্কাল ” গল্পকে আকর্ষণীয় করে তোলেন নি তিনি । সূচনা পর্বে উত্তম পুরুষে বলা গল্প কথকের গা ছম ছম করা অনুভুতি এক ধরনের পারি পাশবিক তাকে প্রকাশ করে সন্দেহ নেই । পরিবেশ এমনই ভাবে এখানে এসেছে উৎকণ্ঠা , উদবেগ এবং আসন্ন শঙ্কার জন্ম দেয় ।



[     ] একটি স্বতন্ত্র শ্রেণীর গল্প “ কঙ্কাল ” গল্পটিতে একটি কঙ্কালের মুখে তার জীবিত কালের কাহিনীর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে । মনে হতে পারে , অতি প্রাকৃত আবহাওয়ার সৃষ্টির প্রয়াস এখানে নেই । স্রোতা কাহিনীটি কে নিজের , “ নিদ্রাহীন উষ্ম মস্তিষ্কের কল্পনা ” মনে করে স্বাভাবিক ভাবে “ চির পরিচিতের ” মতোই বিদেশিনী রমণীর সাথে কথাবার্তা চালিয়েছে । আসলে “ কঙ্কাল ” একটি চমৎকার ব্যার্থ প্রেমের গল্প । রূপ যৌবনমত্তা এক সুন্দরী বিধবা যুবতীর এক ড: যুবকের প্রতি প্রেম সঞ্চার এবং নিজে বিষপানে আত্মহত্যা এই গল্পের প্রতিপাদ্য বিষয়বস্তু । প্রেমমনস্ত্বকের সূক্ষ বিশ্লেষণে এই গল্পটি অসাধারণ সুন্দর হয়ে উঠেছে ।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন