শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১

“ সোমের প্রতি তারা ” পত্রটি বিশ্লেষণ করো প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক bengali honours সোমের প্রতি তারা পত্রটি বিশ্লেষণ করো প্রশ্নোত্তর somer proti tara potroti bishleshon koro questions answer

উত্তর:- বীরাঙ্গনায় প্রত্যেকটি নায়িকার মনোভাব স্পষ্ট ভাবেই উদঘাটিত হয়েছে এবং যেভাবে তাদের মনের প্রতিটি দল ক্রমে ক্রমে প্রকাশিত হয়েছে তাতে নাটকীয়তা দেখা না দিয়ে পারেননি । পত্রিকাগুলি পাঠকের মনে কখনও কৌতূহল , কখনও অনিশ্চয়তা ,  কখনও দ্বন্দ্ব কখনও উত্তেজনা আবার কখনও চমৎকারিত্ব সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছে । এতেই প্রমাণ হয় পত্রিকা গুলির মধ্যে নাটকীয় উৎপাদন আছে । তবে তার মধ্যে “ সোমের প্রতি তারা ” নাটকীয় উপাদানগুলি সবচেয়ে বেশি স্ফুতি লাভ করেছে ।



[      ] “ সোমের প্রতি তারা ” পত্রটি স্তরে স্তরে নাটকীয় অনুভূতি বিন্যস্ত । সোমদেব তারার স্বামী বৃহস্পতির শিষ্য অথচ পত্রের শুরুতেই দেখা যায় সোমদেব কে সম্বোধন করার জন্য তারা ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না । তাই ‘ পুরুষ রত্ন ’ সম্বোধনে সম্বোধিত করলেন । তিনি দাসী হয়ে তাঁর পা দু খানি সেবার ইচ্ছাও প্রকাশ করলেন ।




[     ] এই পত্রে তারার সূক্ষ্ম মানসিক দ্বন্দের বিচিত্র অভিব্যক্তি আছে । চন্দ্রকে গুরুপত্নী তারা ভালবেসেছিলেন । কিন্তু সে ভালবাসার কথা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে পারছে না । এই পত্রে যদিও তিনি মাঝে মাঝে তাঁর মনের কথা এবং চন্দ্রের প্রতি তার পূর্ববর্তী ব্যবহারের কারণ বিশ্লেষণ করে চন্দ্রকে তাঁর অপ্রতিরোধ্য প্রেম নিবেদন করেছেন তবু তৎক্ষনাৎ তাঁর মনে এসেছে দ্বন্দ্ব , শুরু হয়েছে একান্ত আত্মধিক্কার ।  তার প্রকৃত সত্তা হয়েছে জাগ্রত । চন্দ্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসার এই যে সমাজ নিষিদ্ধ প্রেমাকাঙ্ক্ষা ও তজ্জনিত অন্তদ্বন্দ্ব এর মধ্যে দিয়েই কবিতাটি সার্থক হয়ে উঠেছে ।



সোমের অপূর্ব রুপই তারাকে তার প্রতি আকর্ষণ করেছে । অর্থাৎ চন্দ্রের প্রতি তারার রূপজ মোহই এখানে প্রধান । তারা সোমদেবকে প্রথম দর্শনেই ভালোবেসেছেন ।



  “ যেদিন প্রথমে তুমি এ শান্ত আশ্রমে 

    প্রবেশিকা , নিশাকান্ত , সহসা ফুটিল 

    নব কুমুদিনী সম এ পরাণ মম

    উল্লাসে ।”

 


প্রিয়সী ও গুরুমা এই উভয় সত্তার দ্বন্দে তারা চরিত্র একটি বৈশিষ্ট্য ভূমিকা গ্রহণ করেছে । তারা সোমদেব কে ভালোবেসেছেন , যে সোমদেব তার স্বামীর শিষ্য । তাঁর কণ্ঠস্বর শুনে তার মন ময়ূরের মতো নাচত ।  প্রেয়সী সত্তার স্বাভাবিক গুন প্রিয়জনের ভালোবাসার বস্তুর প্রতি আকর্ষণ । তারাও একই কারণে চন্দ্রের মতো মৃগশিশু কোলে করে কাঁদেন ।

  


প্রেয়সী সত্তার মূল গুণ হলো ঈর্ষা । চন্দ্রের পাশে ,‘ রোহিণীর স্বর্ণ কান্তি লক্ষ করে তারার প্রাণ ব্যাকুল হয়ে উঠত । সপত্নী বলে তাকে গালাগালিও করতেন , চন্দ্রের স্নেহধন্য কুমুদ পুষ্পকে ছিঁড়ে ফেলতেন । কিন্তু তারা নিজেকে গুরুমা সত্তাকে ভুলতে পারেন না । ভুলতে পারেন না ‘ জনম মম মহা ঋষি কূলে ’ তাই একথা ও বলতে ভুল করেন না ‘ হায়রে কি পাপে বিধি এ তাপ লিখিল এ ভালে ?’ এবং আরও বলেন ‘ কোকিলের নীড়ে কিরে রাখিলি গোপনে কাক শিশু ’ লেখনীকেও গঞ্জনা দিতে ছাড়েন না তিনি । প্রেয়সী সত্যকে জাগাবার আপ্রাণ চেষ্টার মাঝেও আত্মধিক্কার জাগে তাঁর ‘ পাপীয়সী ’ ইত্যাদি শব্দ উচ্চারন করে ।



[       ]  অবশেষে সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্বকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করতে থাকে তারা । সোমদেবের  চরণে নিজেকে সমর্পণ করেন । শেষ মুহূর্তে আর কলঙ্কের ভয় করেন না তারা , তাঁর মনোভাব এবার স্পষ্ট হয়ে উঠল ।



     “   দিনু জলাঞ্জলি কুল মানে তব জন্যে ”।




তারার প্রেমিকা মূর্তির সত্যিকারে জাগরণ ঘটেছে । প্রেমিকের জন্য তিনি তপস্যায় বসার জন্য মনস্থির করে ফেলেছেন । তাই প্রেমিকের কাছে নিঃশর্তে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে তারার প্রেমিকা চরিত্রে পূর্ণ প্রস্ফুটন ঘটেছে । তাই তারা বলেছেন 



        “  জীবন মরণ মম আজি তব হতে ।”



এই পত্রটিতে আমরা দেখতে পাই মধুসূদন যেমন নাট্য গুণের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন ঠিক তেমনি প্রেমের ছবি এঁকেছেন । ফলে পাঠকের মন বিগলিত হয়ে যায় ।







কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন