সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১

বাংলা গদ্যের বিকাশে রামমোহন রায়ের গদ্য গ্রন্থগুলির পরিচয় দাও প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা সাম্মানিক অনার্স bengali honours বাংলা গদ্যের বিকাশে রামমোহন রায়ের গদ্য গ্রন্থগুলির পরিচয় দাও প্রশ্নোত্তর bangla godder bikashe rammohon rayer goddo grontho gulir porichoy dao questions answer


প্রশ্ন : বাংলা গদ্যের বিকাশে রামমোহন রায়ের গদ্য গ্রন্থগুলির পরিচয় দাও ।


উত্তর : যে সব পন্ডিতগণ বাংলা গদ্য রচনায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাজা রামমোহন রায় । শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকই স্বপ্ন , তাঁর বাইরেও নানা বিষয় তিনি পুস্তক রচনা করেন । সেই কারণে রামমোহনের গদ্যভাষা নানা রূপে গুনে সর্বসমক্ষে প্রতিষ্ঠা পায় । 



[       ] বলাবাহুল্য তিনিই বাংলার নবজাগরণের প্রথম ও প্রধান পথপ্রদর্শক । ধর্মসংস্কার , কী সম্পদ সংস্কার , কী শিক্ষা সংস্কার সর্বক্ষেত্রেই তাঁর আবেদন অনস্বীকার্য । নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তাঁকে পথ চারণা করতে হয়েছে । আবার তিনিই সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করেছেন । এই সামাজিক সমস্যা যত গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে তাঁর হাতের লেখনী হয়েছে তত বেশি শক্তিশালী । আর সেই লেখনীতে প্রকাশ পেয়েছে বাংলার চিরায়ত গদ্যভাষা । এই গদ্যভাষাই ছিল যে কোন সামাজিক সমস্যা সমাধানের প্রধান মাধ্যম । তাই তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলা গদ্যভাষা বলিষ্ট ও গতিশীল রূপ পেয়েছিল ।




[       ] রামমোহনের রচিত গ্রন্থগুলি হল ১. বেদান্ত গ্রন্থ , ২. বেদান্ত সার , ৩. পাঁচ টি উপনিষদের অনুবাদ . ৪. সমাজ ধর্মনীতি শিক্ষানীতি প্রসঙ্গে উক্তি প্রতুক্তিমূলক রচনা :( ক ) উৎসবানন্দ বিদ্যাবাগিশের সহিত বিচার , ( খ ) ভট্টাচার্যের সহিত বিচার , ( গ ) গোস্বামীর সহিত বিচার , ৫. ব্রথপসনা , ৬ . সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক , ৭. গৌড়ীয় ব্যাকরণ ।



১। বেদান্ত : এটি রাজা রামমোহন রায়ের বেদান্তগ্রন্থের বঙ্গানুবাদ । ভূমিকাংশে তিনি বিরুদ্ধবাদীদের মতকে খন্ডন করে বলেন যে 


( ক ) ঈশ্বর নিরাকার হলেও তাঁর উপাসনা করা যায় ।


( খ ) ঈশ্বরের পথ ধরে অন্যান্য যে কোন পথ ত্যাগ করা সম্ভব ।


( গ ) ঈশ্বর অলৌকিক , তাঁর লৌকিক প্রতিমূর্তি পাওয়া সম্ভব নয় । 


বেদান্তগ্রন্থে রামমোহন ব্রহ্মতত্ত্ব ব্যাখ্যা করে ব্রহ্মাকেই উপাসনার প্রধান উপাদান বলে মনে করেছেন ।



২। বেদান্তসার : এই গ্রন্থে রামমোহন বেদান্ত গ্রন্থের আসল স্বরূপ বের করে ক্রমান্দয়ে সাজিয়েছেন । এমনকি , তিনি যে এই বিষয়বস্তুকে নতুন করে সাজিয়েছেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন । রামমোহন যে নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনার কথা বলেছেন , তা তিনি এই গ্রন্থে আরও সহজ করে ব্যাখ্যা করেছেন সাধারনের কাছে । ফলে ব্রহ্মার উপাসনার পথ আরও সহজ হয়েছে ।



৩। উৎসবানন্দ বিদ্যাবাগিশের সহিত বিচার : রামমোহনের অন্যান্য শাস্ত্রীয় বিচার মূলক গ্রন্থগুলির মধ্যে এটি ছিল বিশেষ উল্লেখযোগ্য । উৎসবানন্দ নামে এক বৈষ্ণব সাধকের সঙ্গে রাম মোহনের বিতর্কের ভিত্তিতে এই আখ্যায়ীকাটি রচিত । উৎসবানন্দের , মতকে খন্ডন করে রামমোহন প্রমাণ করেন যে , নিরাকার চৈতন্য স্বরূপ পরমব্রহ্মই জগতে একমাত্র সত্য ।


৪। ভট্টাচার্যের সহিত বিচার : এই গ্রন্থ টি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের “ বেদান্ত চারিত্রকার ” উপরে লিখিত হয়েছিল । শাস্ত্রীয় যুক্তি তর্কের দ্বারা বিচার করে রামমোহন ভট্টাচার্যের মতবাদকে লঙ্ঘন করেছেন । ভট্টাচার্য মতে পরমাত্মা নিরাবয়ব নন তাঁরও দেহে আছে । এই মতবাদকে রামমোহন স্বীকার করে নিতে পারেননি । নিয়তি এটি ব্যাখ্যা করে বলেন , ঈশ্বর অতীন্দ্রিয় তাঁর প্রতিমূর্তি কখনই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হতে পারে না । এছাড়া তিনি ভট্টাচার্যের প্রতিমা পূজার সপক্ষে যুক্তি লঙ্ঘন করে বলেন , যে সকল ব্যাক্তি নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করতে জানে না যে তারা কেবল প্রতিমা পূজাতে লিপ্ত থাকেন ।


৫। সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক - নিবর্তক সম্বাদ এবং সহমরণ বিষয়ক : এই গ্রন্থ তিনটিতে তৎকালীন সমাজ ব্যাবস্থার একটি সুন্দর ছবি ফুটে উঠেছে । এখানে প্রবর্তক ও নীবর্তক দুই শ্রেণীর প্রতিনিধিকে উপস্থাপিত করে সহমরণের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে চেয়েছেন । প্রবর্তক অঙ্গিরা ঋষির মত পোষণ করে সহমরণের পবিত্রতাকে প্রমাণ করেছেন । অন্যদিকে নীবর্তক মনু , যাজ্ঞবল্ক এই সমস্ত ঋষির কথা উল্লেখ করে সহমরণের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছে ।



[       ] সহমরণ সম্বন্ধে দ্বিতীয় গ্রন্থে রামমোহন মানবিকতার কথা ভুলে সহমরণের পক্ষে যুক্তি দেখান । সহমরণ বিষয়ক তৃতীয় গ্রন্থে রামমোহন বিপ্রনামা ও মুগ্ধবোধ ছাত্র নামে দুটি চরিত্রের মুখ দিয়ে সহমরণ বিষয়ক যুক্তি তর্কের অবতারণা ঘটিয়েছেন । গীতাতেও যে সহমরণ কার্যের বিরুদ্ধে নিষেধ আছে তা তিনি বিপ্রনামা চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন ।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন