শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য ও চণ্ডীদাস সমস্যা প্রশ্নোত্তর

 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য ও চণ্ডীদাস সমস্যা প্রশ্নোত্তর বাংলা অনার্স srikrishna korton o chondidas somossa bengali honours



                 প্রশ্নের মান - ৫/৬



প্রশ্ন:  " শ্রীকৃষ্ণকীর্তন " কাব্য ও চণ্ডীদাস সমস্যা ।


উত্তর:-  ' শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ' কাব্যটি মধ্য যুগের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য কৃষ্ণলীলা বিষয়ক কাব্য । কাব্যটি বড়ু চণ্ডীদাসের রচনা হলেও এই চণ্ডীদাস সম্পর্কে নানা সমস্যা দেখা যায় । কাব্যটি যে বিচিত্র এবং কবি যে বেশ শক্তিশালী তাতে কোনো সন্দেহ নেই । কিন্তু এর কোনো কোনো স্থূল বর্ণনার জন্য কেউ কেউ কাব্যটির প্রমানিকতায় সন্ধিহান । অন্তত ইনি সেই চণ্ডীদাস নন যাঁর গানে মহাপ্রভু ডুবে থাকতেন , সারা বাংলা যাঁর গানে আজও মুগ্ধ । চৈতন্যদেব কি এরকম স্থূল রুচির কাব্য পাঠে অপার্থিব আনন্দরস উপলব্ধি করতে পারতেন এ বিষয়ে সন্দেহ অন্তত ন্যায় সঙ্গত । পুঁথি টি যে অন্তত ষোড়শ শতাব্দীর , তার পরবর্তী নয় , তা এর হস্তাক্ষর দেখে লিপিবিশারদেরা সিদ্ধান্ত করেছেন । পুঁথিটিতে দু তিন রকমের হাতের লেখার সংমিশ্রণ থাকলেও প্রধান হস্তাক্ষর চারশো বছরের পূর্ববর্তী তা নানা পুঁথির সঙ্গে এর লেখা মিশিয়ে প্রমাণিত হয়েছে । উপরন্তু ভক্ত অনুচর সনাতন গোস্বামীর ভাগবতের টিকায় " শ্রীচণ্ডীদাসাদি দর্শিত দান খন্ড নৌকাখন্ডাদির " উল্লেখ আছে । তাছাড়া চৈতন্যে প্রভাবিত পরবর্তী রাধাকৃষ্ণলীলার ধারা থেকে এ কাব্য সম্পূর্ন পৃথক , এতে তখনও চৈতন্যে ভক্তিবাদ প্রভাব বিস্তার করেনি । সুতরাং ঐ কাব্য কে পঞ্চদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে চৈতন্যে বিভাবের পূর্বে স্থাপন করা যেতে পারে । কাব্য টির ভাষা , হাতের লেখা , ভাবাদর্শ প্রভৃতি সেই সাক্ষই দেয় । কিন্তু চৈতন্যদেব সে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য পড়ে বিরহ বেদনা প্রশমিত করতেন এমন নয় । " চৈতন্যচরিতামৃত " এ উল্লিখিত বিদ্যাপতি চণ্ডীদাসের গানে প্রভুর অত্যধিক প্রীতির নিদর্শন রূপে যে চণ্ডীদাসের কথা আছে , তার সঙ্গে বড়ু চণ্ডীদাসের " শ্রীকৃষ্ণকীর্তন " এর কোনো সম্পর্ক নেই । চৈতন্যদেব পদাবলীর চণ্ডীদাসের পদগান শুনেই বিমোহিত হতেন । " শ্রীকৃষ্ণকীর্তন " কাব্য তাকে যাই দিক , ভক্তি দিতে পারত না ।


[   ] বড়ু চণ্ডীদাসের " শ্রীকৃষ্ণকীর্তন " প্রাক চৈতন্যে যুগের কাব্য হলেও চৈতন্যেদেব এ কাব্য উপভোগ করতেন না । পদাবলীর চণ্ডীদাস নামে আর একজন কবি ছিলেন । তার পদেই চৈতন্যেদেব মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং পরবর্তী কালে সারা বাংলা মুগ্ধ হয়েছে । এরপরে বৈষ্ণব পদাবলী সম্পর্কে আলোচনায় চণ্ডীদাস কজন এ বিষয়েও বিতর্ক আছে । কিন্তু এটুকু জানা যায় যে , " শ্রীকৃষ্ণকীর্তন " কাব্য জাল কাব্য নয় , অতি প্রাচীন কাব্য , চৈতন্যেদেবের পূর্ববর্তী পঞ্চদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা । সুতরাং চৈতন্যদেব এ কাব্য পড়তেন বলে মনে হয় না , পদাবলীর চণ্ডীদাসের গানই তাকে বিশুধ আনন্দ দিত ।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন