সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১

আমার পরমায়ুর সমস্ত দিন রাত্রির মধ্যে সেই একটি মাত্র রাত্রিই আমার তুচ্ছ জীবনের একমাত্র চরম সার্থকতা বক্তা কে এখানে কোন রাত্রির কথা বলা হয়েছে তাকে চরম সার্থকতা বলবার কারণ কি প্রশ্নোত্তর

বাংলা অনার্স সাম্মানিক আমার পরমায়ুর সমস্ত দিন রাত্রির মধ্যে সেই একটি মাত্র রাত্রিই আমার তুচ্ছ জীবনের একমাত্র চরম সার্থকতা ।" বক্তা কে ? এখানে কোন রাত্রির কথা বলা হয়েছে ? তাকে চরম সার্থকতা বলবার কারণ কি প্রশ্নোত্তর amar poromayur somosto din ratrir moddhe sei akti matro ratriri amar tuccho jiboner akmatro chorom sarthokota bokta ke a khane kon ratrir kotha bola hoyeche take chorom sarthokota bolar karon ki

 

প্রশ্ন: " আমার পরমায়ুর সমস্ত দিন রাত্রির মধ্যে সেই একটি মাত্র রাত্রিই আমার তুচ্ছ জীবনের একমাত্র চরম সার্থকতা ।" বক্তা কে ? এখানে কোন রাত্রির কথা বলা হয়েছে ? তাকে চরম সার্থকতা বলবার কারণ কি ?



উত্তর:- " আমার পরমায়ুর সমস্ত দিন রাত্রির মধ্যে .." উক্তিটির বক্তা " একরাত্রি " গল্পের কথক । যে রাত্রে বন্যা ও দুর্যোগের কারণে সুরবালা আত্মরক্ষার উদ্দেশ্য পুস্করিনির পাড়ে উঠে এসে গল্প কথকের সান্নিধ্য কিছু টা সময় কাটিয়ে গিয়েছিল এ খানে সেই রাত্রির কথা বলা হয়েছে ।


[      ] বাল্য প্রণয়িনী সুরবালা কে হঠকারিতা বশত বিবাহ করতে না চাওয়ায় তার অন্য পাত্রে বিবাহ হয়ে যায় । পড়ে ঘটনাচক্রে সুরবালার স্বামীর বাসার পাশেই গল্প কথক স্কুল মাস্টারির চাকরী পান । খুব কাছেই সুরবালা থাকে অথচ তাঁর সঙ্গে আলাপ করা যাবে না সে আজ পরস্ত্রী এই কথাটা মনের মধ্যে যত আন্দোলিত হয়েছে তত সুরবালার প্রতি তাঁর প্রণয় তৃষ্ণা তীব্র হয়ে উঠেছে । হৃদয় ভাড়াক্রান্ত হয়ে উঠেছে । সুরবালার একবার সান্নিধ্য পাবার জন্যে তাঁর মন ব্যাকুল হয়ে উঠেছে ।



[      ] প্রাকৃতিক দুর্যোগের রাত্রিতে সেই সান্নিধ্য লাভের সুযোগ এসেছে । বন্যায় চারিদিক জলমগ্ন হতে থাকলে আত্মরক্ষার জন্য সুরবালা ঘর ছেড়ে পুস্করিনির উঁচু পাড়ে উঠে এসেছে তাঁকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসবার জন্য তার ঘরের দিকে ছুটে যাবার সময় পুস্করিনির পারেই গল্প কথকের সাথে সুরবালার সাক্ষাৎ হয়েছে । কতদিন পর সাক্ষাৎ । পরস্ত্রীর সঙ্গে পর পুরুষের নিভৃতে সাক্ষাৎ । সংস্কার আর সংকোচ উভয়ের মাঝখানে পাঁচিল দাঁড়িয়েছে । তাই কেউ কাউকে কুশল জিজ্ঞাসাও করতে পারেন নি । নিরবে বেশ কিছুটা সময় তাঁরা পরস্পরের সান্নিধ্য কাটিয়ে সকাল হতেই নিজের ঘরে ফিরে গিয়েছিল । যাঁর সান্নিধ্য লাভ সহজ নয় তাকে এতক্ষন কাছে পাওয়াটাকেই কথক সার্থকতা মন করেছেন । চরম পাওয়া মনে করেছেন । এই সান্নিধ্য সুখের স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই তিনি জীবন কাটাবেন । এই জন্যই গল্প কথক সেই রাত্রি টাকে জীবনের একমাত্র চরম সার্থকতা বলতে চেয়েছেন ।



রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১

পুঁইমাচা গল্পের অন্নপূর্ণার চরিত্রটি কতটা সার্থক হয়েছে আলোচনা করো প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক পুঁইমাচা গল্পের অন্নপূর্ণার চরিত্রটি কতটা সার্থক হয়েছে আলোচনা করো প্রশ্নোত্তর Bengali honours puimacha golper onnopurnar choritroti kotota sarthok hoyeche alochona koro

প্রশ্ন: " পুঁইমাচা " গল্পের অন্নপূর্ণার চরিত্রটি কতটা সার্থক হয়েছে আলোচনা করো ।


উত্তর:- " পুঁইমাচা " গল্পের প্রধান নারী চরিত্র টি অন্নপূর্ণা । ক্ষুদ্র পরিসরেই সে একটি পূর্ণাঙ্গ নারী চরিত্র রূপে ফুটে উঠেছে । তিন কন্যার জননী ,এই  অন্নপূর্ণা দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের বধূ । গৃহকর্ত্রী  ব্যক্তিত্ব যেমন তার মধ্যে ফুটে উঠেছে , তেমনি ফুটে উঠেছে , তেমনি ফুটে উঠেছে স্নেহ বাৎসল্য, ন্যায় ধর্ম , কর্তব্যবোধ এবং কর্মতৎপরতা । অকর্মন্য স্বামীর উচ্ছবৃত্তি  এবং সব ব্যাপারে উদাসীনের জন্য সে বিরক্তি প্রকাশ করেছে ,  মেয়ের বিয়ের উদ্যোগ করতে তাগাদা দিয়েছে । পড়ের জমির ফেলে দেওয়া পুঁইশাক নিয়ে আসায় মেয়েকে বকেছে , পুঁইশাক ফেলা করিয়েছে ।  আবার গোপনে কুড়িয়ে এনে রান্না করে মেয়েকে স্নেহে খেতেও দিয়েছে । পরের জিনিস চুরি করে আনলে অন্নপূর্ণা রাগ করেছে । বলেছে " আমার জোটে খাব , না জোটে খাব না , তা বলে পরের জিনিসের হাত ?"



[      ] সাধ্যমত মেয়েদের স্নেহ যত্ন করে , ভালো খাবার তৈরি করে খাওয়াত অন্নপূর্ণা । ভোজন রসিক বড় মেয়েকে বেশি বেশি দিত । মনে মনে ভাবত " ক্ষেন্তী আমার যার ঘরে যাবে , তাদের অনেক সুখ দেবে ।" কিন্তু আশা পূরণ হয়নি । ক্ষেন্তির বিয়ে দিয়ে পরের ঘরে পাঠিয়েছে , আর সে ফিরে আসেনি বসন্তে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে । এখন খাবার তৈরি করে অন্য দুই মেয়েকে দিয়ে অন্নপূর্ণা বড়ো মেয়ের কথা ভেবে স্বভাবতই কাতর হয় । দরিদ্র পরিবারের স্নেহ বাৎসল্য জননী চরিত্র হিসেবে অন্নপূর্ণা খুবই সার্থক চরিত্র হয়েছে ।


শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১

পুঁইমাচা গল্পের সমকালের কোন সমাজ চিত্র ফুটে উঠেছে আলোচনা করো প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক পুঁইমাচা গল্পের সমকালের কোন সমাজ চিত্র ফুটে উঠেছে আলোচনা করো প্রশ্নোত্তর Bengali honours puimacha golper somokaler kon somaj chitro fute utheche alochona koro


প্রশ্ন: " পুঁইমাচা " গল্পের সমকালের কোন সমাজ চিত্র ফুটে উঠেছে ? আলোচনা করো ।


উত্তর:- বিভূতিভূষণের " পুঁইমাচা " গল্পে সমকালীন সমাজের কিছু চিত্র ফুটে উঠেছে । তখনকার সমাজে এগারো বারো বছর বয়সেই মেয়ের বিয়ে দিতে হতো । বিয়েতে পণ দেবের প্রথাও ছিল । দারিদ্র দারিদ্র্য বশত, কিংবা  পছন্দের পাত্র না জোটায় সময় মত মেয়ের বিয়ে না দিলে সমাজ তাকে ক্ষমা করতে না । একঘরে করত । সেই একঘরে হবার ভয়েই দরিদ্র অভিভাবকেরা মেয়ের বয়স যথাসম্ভব কমিয়ে বলতো । তাতেও বাঁচার উপায় না থাকলে অপাত্রে কন্যা  উৎসর্গ করতে দ্বিধা করত না  কন্যার পিতা মাতা । পুঁইমাচা গল্পে ক্ষেন্তির বয়স পনেরো হলেও তার অভিভাবকেরা বারো তেরো  বলে প্রচার করে । শেষ পর্যন্ত সমাজচ্যুত হবার ভয়েই দ্বিতীয় পক্ষের বুড়ো বরের সঙ্গে ক্ষেন্ত্রীর বিয়ে ঠিক হয় । পাত্রের বয়স এতটাই বেশি যে তার সামনে বের হতে অন্নপূর্ণার সংকোচ হয়েছে । এই বিয়েও সুখের হয়নি । পণের আড়াইশো টাকা বাকি ছিল বলে শ্বশুর ঘরে ক্ষেন্তি যত্ন ও মর্যাদা পায়নি । নানান অপবাদ মাথায় নিয়ে , বসন্তে আক্রান্ত হয়ে বছর না ঘুরতেই মারা গিয়েছে ।




[       ] গল্পে আরো কিছু সমাজ চিত্র ফুটে উঠেছে , তখনকার ব্রাহ্মণেরা দারিদ্র সত্ত্বেও কোনো উপাজনমূলক কাজ করতো না । কিন্তু পেটের দায়ে উচ্চবিত্ত করত । পরের জিনিস না বলে গ্রহণ করত । গল্পের সহায় হরি তাই করেছে । আর কিছু না থাকলেও বংশ গৌরব নিয়ে বড়াই করবার মানসিকতা ছিল ।



শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১

তাহারা সোনার দেউল তুলিয়াছে মরা পাহাড়ের আড়ালে পৃথিবী দেখে তাই মরা পাহাড়, সোনার দেউলের দিকে কেউ চায়না কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক তাহারা সোনার দেউল তুলিয়াছে মরা পাহাড়ের আড়ালে পৃথিবী দেখে তাই মরা পাহাড়,  সোনার দেউলের দিকে কেউ চায়না   কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো প্রশ্নোত্তর Bengali honours tahara sonar deul tuliyache mora paharer arale prithibi dekhe tai mora pahar sonar deouler dike keu chaina kothatir tatporjo bakkha koro questions answer


প্রশ্ন: " তাহারা সোনার দেউল তুলিয়াছে মরা পাহাড়ের আড়ালে । পৃথিবী দেখে তাই মরা পাহাড়,  সোনার দেউলের দিকে কেউ চায়না ।"  কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো ।



উত্তর:-" তাহারা সোনার দেউল তুলিয়াছে মরা পাহাড়ের আড়ালে ।"  উদ্দীপ্ত উক্তিটি তারাশঙ্করের "  জলসাঘর " গল্প থেকে গৃহীত । এ খানে  " সোনার দেউল "  বলা হয়েছে মহিম গাঙ্গুলীর বাড়ি কে । আর " মরা পাহাড় " বলা হয়েছে রায়বাড়ীকে । মহিম গাঙ্গুলী ধনতন্ত্রের  প্রতিনিধি । আধুনিক অট্টালিকায় চাকচিক্য আছে ,  কিন্তু মহিমা নেই । তা আছে সামন্ততান্ত্রিক রায়বাড়ীতে । অনেকটা জায়গা নিয়ে বিশাল বাড়ি । পাহাড়ের চাকচিক্য না থাকলেও তার বিশালতা , উদারতা , মহত্ব মানুষকে মুগ্ধ করে আকৃষ্ট করে । মরা পাহাড় বা শোভাহিন রুক্ষ পাহাড়ও আকর্ষণীয় হয় । ধনহিন , ধংসসম্মুখ রায়বাড়ি সেই মরা পাহাড়ের মতোই । দরিদ্রের চিহ্ন তাঁর সর্বাঙ্গে । তবু তার বিশালত্বই মানুষকে মুগ্ধ ও শ্রদ্ধানত করে । এত বেশী জায়গা নিয়ে এত বড়ো অট্টালিকা একালের ধনীরা বানাবেন না । তাতে আলোর চাকচিক্য , আসবাবের চমৎকারিত্ব থাকলেও তা আয়তনে ক্ষুদ্র হওয়ায় কারো মনে বিস্ময় উৎপাদন করতে পারে না , তার মহিমা বা গৌরব কম । মহিমের অনেক টাকা থাকলেও কেউ তাকে " হুজুর " বলে খাতির করে না । ধনহিন , নিঃস্ব বিশ্বম্ভর কে " হুজুর " বলে , এতেই বোঝা যায় তাঁর সামন্ততান্ত্রিক মাহাত্ম্য ।



বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১

সেই রাত্রি হইতে ভিখুর আদিম , অসভ্য জীবনের দ্বিতীয় পর্যায় আরম্ভ হইল কোন রাত্রির কথা বলা হয়েছে আদিম অসভ্য বলতে কী বোঝানো হয়েছে প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক সেই রাত্রি হইতে ভিখুর আদিম , অসভ্য জীবনের দ্বিতীয় পর্যায় আরম্ভ হইল কোন রাত্রির কথা বলা হয়েছে আদিম অসভ্য বলতে কী বোঝানো হয়েছে প্রশ্নোত্তর Bengali honours sei ratri hoite bikhur adim osovo jiboner ditiyo porjay arombho hoilo kon ratrir kotha bola hoyeche adim osovo bolte ki bojhano hoyeche

প্রশ্ন: " সেই রাত্রি হইতে ভিখুর আদিম , অসভ্য জীবনের দ্বিতীয় পর্যায় আরম্ভ হইল ।" কোন রাত্রির কথা বলা হয়েছে ? আদিম অসভ্য বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? 



উত্তর:- " সেই রাত্রি হইতে ভিখুর আদিম , অসভ্য জীবনের "  এখানে সেই রাত্রি বলতে যে রাত্রে অকৃতজ্ঞ ভিখু তাকে বেঁচে উঠতে সাহায্য করা পেহলাদের ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে ছিল , সেই রাত্রের কথা বলা হয়েছে ।


[      ] ভিখুর জীবন যাপনটাই ছিল আদিম এবং অসভ্য । পেটের আর দেহের খিদে মেটানো ছাড়া তার বাঁচার আর কোনো মানে ছিল না । পশুদের বাঁচার সঙ্গে তার বাঁচার কোনো পার্থক্য ছিল না । দয়া , মায়া , মানুষত্ব , কৃতজ্ঞতা , বিবেচনা এসবের ছিটে ফোটাও তার চরিত্রে ছিল না । পেটের খিদে মেটাবার রসদ জোগাড় করতে সে  ডাকাতির পথ বেছে নেয় । মানুষ খুণ করতে তার হাত কাঁপে না । বরং , স্ত্রীর সামনে স্বামীকে খুন করার সময় স্ত্রীর আতঙ্কের ছাপ দেখে আর চিৎকার শুনে তার তৃপ্তি হয় । ডান হাতটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার ডাকাতি বন্ধ হয়ে গেল । তাই পেট ভরাবার রসদ পেতে এবার সে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করলো । কিন্তু তার মানসিকতার এতটুকুন পরিবর্তন হলো না । আগের পর্যায়ে দেহের সুখের জন্য সে নেশা করে বসির ঘরে যেত । দ্বিতীয় পর্যায়ে বসির বিকল্প হিসেবে পাঁচি কে রাখতে সে নেশা করে বসির মিয়া কে খুন করে ফেললো । সমাজের কোনো শিক্ষা , কোনো সভ্যতা ভব্যতার  সে ধার ধারে না । কোন পাপ পুণ্য অপরাধ কোনো নীতি দুর্নীতির বোধ ভিখুর মধ্যে জন্মাতেই পারেনি । এই জন্য তার জীবন যাপন আদিম , পশুদের মত অসভ্য ।



বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১

পুঁইমাচা গল্পের সহায়হরি চরিত্রটি আলোচনা করো প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক পুঁইমাচা গল্পের সহায়হরি চরিত্রটি আলোচনা করো প্রশ্নোত্তর Bengali honours puimacha golper shoyhori choritro ti alochona koro questions answer


১। "পুঁইমাচা " গল্পের সহায়হরি চরিত্রটি আলোচনা করো ।



উত্তর:- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "পুঁইমাচা" গল্পের প্রধান পুরুষ চরিত্র টি হল সহায়হরি । নির্ধন, অক্রমন্য, স্বভাবভীরু বলতে কিছু নেই , অথচ তিনটি কন্যা । প্রথমটাতো বিবাহযোগ্য । অর্থনৈতিক দুরবস্থা সহায়হরির গা সওয়া হয়ে গেছে বলেই সে কোনো কিছু নিয়ে তেমন ভাবতে রাজি নয় । স্ত্রীর তিরস্কারেও নয় ।




[      ] অকর্মন্য বাপ হলেও মেয়েদের সহায়হরি খুবই ভালোবাসে । তাদের খোরাক জোটাতে সে উচ্চবৃত্তি করতে , এমনকি চুরি করতেও দ্বিধা করে না । বড়ো মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বরজ পোতায় পরের জমির মেটে আলু তুলে এনে স্ত্রীর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে ।



[        ] সমাজে থাকতে গেলে মেয়ের বিয়ে দিতে হয় । সাধ্য কম বলেই সহায়হরি দ্বিতীয় পক্ষে ক্ষেন্তীর বিয়ে দেন । কিন্তু সে বিয়ে সুখের হয়নি । পণের আড়াইশো টাকা বাকি থাকায় ক্ষেন্তি শ্বশুরবাড়িতে যত্ন পায়নি । বসন্তে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় । ক্ষোভে-দুঃখে সহায়হরির চোখে জল আসে । টাকা দিতে না পারায় ক্ষেন্তীর শ্বশুরবাড়ির লোক তাকে পাঠাতে চাই নি ।



[     ] অর্থ না থাকলেও সহায়হরির বংশগৌরবের অহংকার ছিল , ক্ষেন্তীর শশুর বাড়ির লোক সহায়হরিকে  "ছোটলোক " বলায় সে প্রতিবেশী বিষ্ণু সরকার কে বলেছে ,  " বলি আমরা ছোটলোক বড়লোক , তোমরা তো খুড়ো সরকার জানতে বাকি নেই , বলি পরমেশ্বর চাটুয্যর নামে নীলকুঠির আমলে এ অঞ্চলে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেয়েছে ,  আজই না হয় আমি .. বিংশ শতাব্দীর কন্যাদায়গ্রস্থ ,  অকর্মন্য প্রোঢ ব্রহ্মানের চরিত্র হিসেবে সহায়হরি অবশ্যই সার্থক চরিত্র । তবে গল্পে চরিত্র টি তেমন গুরুত্ব পায়নি ।



মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১

জলসাঘর গল্পের রাজবংশের সামন্ততান্ত্রিক কিছু নমুনা উল্লেখ করো প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক জলসাঘর গল্পের রাজবংশের সামন্ততান্ত্রিক কিছু নমুনা উল্লেখ করো প্রশ্নোত্তর Bengali honours jalsaghar golper rajbongsher samontotantrik kichu nomuna ullekh koro questions answer

প্রশ্ন: " জলসাঘর " গল্পের রাজবংশের সামন্ততান্ত্রিক কিছু নমুনা উল্লেখ করো 


উত্তর:- " জলসাঘর " গল্পের প্রধান বিষয় হলো একটা সামন্ততান্ত্রিক জমিদার পরিবারের পতনের চিত্র । জমিদার বাড়ির ধ্বংসসম্মুখ অবস্থার মধ্যেও সামন্ততান্ত্রিক ঐতিহ্যের কিছু নমুনা গল্পে দেখানো হয়েছে । পলেস্তারা খসে পড়া বিরাট অট্টালিকা তো আছেই , আছে বৃদ্ধ ঘোড়া তুফান , আছে বৃদ্ধ হস্তিনী মতি । বিশ্বম্ভর বাবুর মায়ের বিয়েতে এই হস্তিনী যৌতুক পান । বিশ্বম্ভবের পিতা হাতিটিকে বলতেন " ছোটগিন্নি " ।  বিশ্বম্ভর বলতেন " মালক্ষ্মী ।"



[       ] বিরাট বাড়িটার নানা দিকে বহু ঘর ফরসাঘর ,  বাতিঘর , অতিথিদের ঘর , পওনিদারদের থাকার ঘর । ছিল কত বিছানা , ফরাস , ঝাড় লন্ঠন আরো কতকি। দেওয়ালে টাঙানো বড় বড় তৈলচিত্রের প্রমাণ এখনো ঝুলছে । আছে জলসাঘর সেখানে রায় বংশের কর্তারা নাচ , গান , উপভোগ করতেন । রায় বংশেরই এক পুরুষ মোহর বখশিশ দিয়েছিলেন । বিশ্বম্ভর লখনৌ এর বাইজিদের গাওনা করিয়েছেন এই জলসা ঘরেই , যা বড়ো লোক মহিম গাঙ্গুলীর ও নেই । বাইজিদের মোহর বখশিশ দিয়েছেন সামন্তন্ত্রিক ঐতিহ্য মেনেই ।



সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১

জলসাঘর অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক জলসাঘর অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর Bengali honours jalasa ghor oti songkhipto questions answer


                   প্রশ্নের মান :- ১/২



১। বিশ্বম্ভর বাবুর বাগানে কোন কোন গাছ অবশিষ্ট  আছে ? 



উত্তর:- বিশ্বম্ভর বাবুর বাগানে অবশিষ্ট গাছের মধ্যে রয়েছে কটা মুচকুন্দ , বকুল , নাগেশ্বর ও চাপা ।



২। রায় বাড়ির পাশ দিয়ে কোন নদী প্রবাহিত ?  বিশ্বম্ভরবাবু ঘুম ভাঙ্গে কিভাবে ?



উত্তর:- রায় বাড়ির পাশ দিয়ে গঙ্গা নদী প্রবাহিত ।  বিশ্বম্ভর বাবুর ঘুম ভাঙ্গে অভ্যাস বশে পারাবতের গুঞ্জনে । 



৩। বিশ্বম্ভর রায়ের পুরোনো খানসামার নাম কি ? বিশ্বম্ভর রায়ের বড়লোক প্রতিবেশীর নাম কি ?



উত্তর:- বিশ্বম্ভর রায়ের পুরানো খানসামার নাম অনন্ত । বিশ্বম্ভর রায়ের হালে বড়লোক প্রতিবেশীর নাম মহিম গাঙ্গুলী ।



৪। বিশ্বম্ভর রায়ের অবশিষ্ট ঘোড়াটির নাম কি ? তার রং কেমন ?



উত্তর:- বিশ্বম্ভর রায়ের ঘোড়াটির নাম তুফান । তার রং সাদা ।



৫। তুফানের পরিচর্যাকারী সহিসের নাম কি



উত্তর:- তুফানের পরিচর্যাকারী সহিসের নাম নিতাই ।



৬। বিশ্বম্ভররায়ের নায়েবের কাজ করতেন কে ?



উত্তর:- বিশ্বম্ভর রায়ের নায়েবের কাজ করতেন তারাপ্রসন্ন ।



৭। বিশ্বম্ভর রায়ের হাতিটির নাম কি ? তিনি কি বলে তাকে ডাকতেন ? 



উত্তর:- বিশ্বম্ভর রায়ের হাতিটির নাম মতি ।  রায় মশাই তাকে  কখনো কখনো " মালী "  বলতেন ।



৮। রাজবাড়ীতে মতির আগমন ঘটে কিভাবে ?



উত্তর:- রাজবাড়ীতে মতির আগমন ঘটে বিশ্বম্ভর রায়ের মায়ের বিয়ের যৌতুক হিসেবে । সেজন্যই  বিশ্বম্ভর মতিকে " মা " ডাকতেন  ।



৯। কে মতির নাম " ছোট গিন্নি " রেখেছিল ?  মতির মাহুতের নাম কি ?



উত্তর:- মতির নাম " ছোট গিন্নি " রেখেছিলেন বিশ্বম্ভরের মা । মতির  মাহুতের নাম রহমত ।



১০। কোন মুসলমান কর্মচারী বিশ্বম্ভরের শেষ দিন পর্যন্ত রাজবাড়ীতে থেকে যায় ?



উত্তর:- মতি মাহুদ রহমত বিশ্বম্ভরের শেষ দিন পর্যন্ত রায় বাড়িতে কাজ করেছে ।



১১। বিশ্বম্ভর রায়ের পিতার নাম কি ?



উত্তর:- বিশ্বম্ভর রায়ের পিতার নাম ধনেশ্বর রায় ।


১২। "  ব্যান্ড বাজে কথায় রে " কে কাকে এ প্রশ্ন করে ? ব্যান্ড বাজার কারণ কি ?  



উত্তর:- "  ব্যান্ড বাজে কথায় রে " এ প্রশ্ন বিশ্বম্ভর রায় সহিস নিতাইকে করেছেন । ব্যান্ড বাজার কারণ ছিল গাঙ্গুলীদের ছেলের অন্নপ্রাশন ।



১৩। রাত বাবু গাঙ্গুলিদের ছেলের অন্নপ্রাশনে কি উপহার পাঠিয়েছিলেন ?



উত্তর:- রায় বাবু গাঙ্গুলীদের ছেলের অন্নপ্রাশনে কাঁসার থালা আর একটা গিনি উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ।



১৪। কে কিভাবে রায়মশাইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে গাঙ্গুলী বাড়িতে লৌকুতো করতে গিয়েছিল ? 



উত্তর:- রায়বাড়ির নায়েব তারাপ্রসন্ন রায় মশাইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে গাঙ্গুলী বাড়িতে লৌকুতো করতে যায় ,  হাতির পিঠে চেপে । 



১৫। কোন আদালতের রায়ে রায়বংশের সম্পত্তি বেহাত হয়ে যায় ? 



উত্তর:- প্রথমে জেলার কোর্ট ,  পরে হাইকোর্টে এবং শেষে প্রিভি কাউন্সিলের রায়ের  রায়বংশের সম্পত্তি বেহাত হয়ে যায় । কেবল বাড়ি আর লাখেরাজ সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে ।



১৬। বিশ্বম্ভর স্ত্রী-পুত্র-কন্যারা কিভাবে মারা যায় ?



উত্তর:- বিশ্বম্ভর স্ত্রী-পুত্র-কন্যারা  মারা যায় কলেরায় । সাত দিনের মধ্যে সব শেষ হয়ে যায় ।



১৭। বিশ্বম্ভরের প্রতি গাঙ্গুলীদের ঈর্ষার তার কারণ কি ?



উত্তর:- শ্রী ভ্রষ্ট হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বম্ভরকে সকলে রাজার সম্মান দিত , " রায় হুজুর " বলতো , অথচ ধনী গাঙ্গুলীদের কেউ সে সম্মান দিত না ।  তাই গাঙ্গুলীদের মনে ক্ষোভ ছিল ।



১৮। হতশ্রী বিশ্বম্ভর রায়কে মহিম গাঙ্গুলী কোন কোন উপায়ে খোঁচা দিতে চেয়েছেন ? 


উত্তর:- বিশ্বম্ভর রায়কে খোঁচা দেবার জন্য মহিন গাঙ্গুলী মোটর নিয়ে রায়বাড়ীতে এসেছেন লক্ষ্ণৌ থেকে বাঈজি আনার কথা জানিয়েছেন , সাহেব সুবোদের নিমন্তন্ন করে আনার কথা জানিয়েছেন , বাড়ীটা জীর্ণ হয়েছে সারানোর দরকার বলে জানিয়েছেন , বাঈজিদের রায়বাড়ীতে পাঠিয়েছেন , জলসাঘরে তার পেট্রোম্যাক্স আলো আনার কথা বলেছেন , নিয়ম ভেঙ্গে বাঈজিকে ইনাম দিতে চেয়েছেন ।  এসব করার উদ্দেশ্যে , রায়মশায়ের দুরাবস্থার কথা মনে করিয়ে দেওয়া ।



১৯। লক্ষ্ণৌর বাঈজিদ্বয়ের নাম কি ?



উত্তর:- লক্ষ্ণৌর বাঈজিদ্বয়ের নাম কৃষ্ণা বাঈ  এবং পিয়ারী বাঈ । 



২০। লক্ষ্ণৌর বাঈজিরা কদিনের জন্য মুজরো বায়না নিয়ে মহিম গাঙ্গুলীর বাড়িতে গাওনা করে 



উত্তর:- লক্ষ্ণৌর বাঈজিরা তিন দিনের বায়না নিয়ে এসে পাঁচদিন গাওনা করে ।



২১। লক্ষ্ণৌর বাঈজিদের মুজরো করার পারিশ্রমিক কত ছিল ?



উত্তর:- লক্ষ্ণৌর বাঈজিদের মুজরো করার পারিশ্রমিক ছিল প্রতি রাতে 100 টাকা ।



২২। মর্যাদা রক্ষার তাগিদে রায়মশায় কিভাবে বাঈজিদের মুজরো করানোর খরচ সংগ্রহ করেছিলেন ?



উত্তর:- রয়মশায় রায়বংশের মাঙ্গলিক সিঁথি আনন্দময়ীর জন্য বিক্রি করে দেবোওরের তহবিলের দেড়শো টাকা নিয়ে মুজরোর খরচ সংগ্রহ করেছিলেন ।



২৩। বিশ্বম্ভর রায়ের পিতামহের নাম কি ? কে রায় বাড়ীতে জলসা ঘর তৈরি করান ?



উত্তর:- বিশ্বম্ভর রায়ের পিতামহের নাম রাবনেশ্বর রায় । রায়বাড়ীতে জলসা ঘর তৈরি করান দুর্দান্ত ভোগী পুরুষ রাবনেশ্বর রায় ।



২৪। জলসাঘরে প্রথম মজলিস বসার দিন  রায় বাড়িতে কোন দুর্ঘটনা ঘটে ? 



উত্তর:- জলসাঘরে প্রথম মজলিস বসার দিন  রাবনেশ্বর স্ত্রী পুত্র মারা যায় ।



২৫। কে জলসা ঘরে এক বাঈজিকে ৫০০ মোহর উপহার দেন এবং কেন ?



উত্তর:- রাবনেশ্বরের দ্বিতীয় পক্ষের পুত্র তারকেশ্বর জলসা ঘরে এক বাঈজিকে দিকে এক রাতেই ৫০০ মোহর বকশিস দেন । এক ধনী আমিরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতেই তিনি এ কাজ করেন ।



২৬। বিশ্বম্ভর রায়ের যৌবনে প্রিয় বাঈজির নাম কি ? তার বাড়ি কোথায় ছিল ? 



উত্তর:- বিশ্বম্ভর রায়ের প্রিয় বাঈজির নাম চন্দ্রাবাঈ ।  তার বাড়ি ছিল দিল্লিতে ।



২৭। রায় মশাই কৃষ্ণাবাঈকে কি নামে সম্বোধন করেছেন ? কেন ?



উত্তর:- রায় মহাশয় কৃষ্ণাবাঈকে " চন্দ্রা " বলে সম্বোধন করেছেন । মদের নেশায় ঘোর লাগা চোখে কৃষ্ণা কে রায় মশায় প্রিয় বাঈজি চন্দ্রা বলে মনে হয়েছে । 



২৮। রাই মশায় লক্ষ্ণৌর বাঈজিদের কি ইনাম দিয়েছিলেন ? 



উত্তর:-  রায়মশাই লক্ষ্ণৌর বাঈজিদের ইনাম পাঠিয়েছিলেন রুপার রেকাবিতে দুই খানাগিনী ।



২৯। বিশ্বম্ভর রায় মহিম গাঙ্গুলীর কোন নেমন্তন্ন রক্ষা করতে পারেননি ? 



উত্তর:- বিশ্বম্ভর রায় মহিম গাঙ্গুলীর বাড়িতে জলসায় পায়ের ধুলো দেবার নিমন্তন্ন রাখতে পারেননি শরীর ভালো না থাকার জন্য ।



৩০। খাসতালুক বলতে কী বোঝায় ?



উত্তর:- খাসতালুক হল  জমিদারির অন্তর্ভুক্ত সেই অঞ্চল জমিদার স্বয়ং যেখানকার খাজনা আদায় করেন ।



৩১। রাজ বংশের আদি পুরুষ কে ? তিনি কোন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন ?



উত্তর:- রাজ বংশের আদি পুরুষ ভুবনেশ্বর রায় । তিনি নবাব দরবারের কানুনগো ছিলেন ।



৩২। কানুনগো কাদের বলা হয় ?



উত্তর:- জমির হিসাব রাখবার প্রশাসনিক দায়িত্ব যাদের উপর থাকে তাদের সহকারী পদের নাম কানুনগো ।



৩৩। জলসাঘরে কার শিকারের ছবি টাঙ্গানো ছিল ? ছবিটা কীরূপ ?  



উত্তর:- জলসাঘরে রাবনেশ্বরের বাঘ শিকার করা ছবি টাঙ্গানো ছিল । মৃত বাঘের উপর পা তুলে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন ।



৩৪। লক্ষ্ণৌর বাঈজিদের গিনি ইনাম দিয়ে বিশ্বম্ভর রায়ের কি মনে হয়েছিল ?



উত্তর:- লক্ষ্ণৌর বাঈজিদের গিন্নি ইনাম দিয়ে বিশ্বম্ভর রায়ের মনে হয়েছিল " রায়বাড়ীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় নাই।" 



৩৫।" জলসাঘর "গল্পের শেষে রায় মশায়ের হাত থেকে কি পড়ে যায় ? এটা কিসের ইঙ্গিত ?



উত্তর:- জলসাঘর গল্পের শেষে রায় মশাইয়ের হাত থেকে চাবুক পড়ে যায় । এটা জমিদারি শাসনের পতনের ইঙ্গিত ।



প্রাগৈতিহাসিক গল্পের ভিখুর অপরাধের একটা তালিকা প্রস্তুত করো তার শেষ অপরাধ কোনটা প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক প্রাগৈতিহাসিক গল্পের ভিখুর অপরাধের একটা তালিকা প্রস্তুত করো তার শেষ অপরাধ কোনটা প্রশ্নোত্তর Bengali honours progoitihasik golper bikhur oporadher akta talika prostut koro tar sesh oporadh konta questions answer



প্রশ্ন: " প্রাগৈতিহাসিক " গল্পের ভিখুর অপরাধের একটা তালিকা প্রস্তুত করো ।  তার শেষ অপরাধ কোনটা ?  



উত্তর:- " প্রাগৈতিহাসিক " গল্পের ভিখু চরিত্র টি একটি অপরাধী চরিত্র । গল্পে তার অনেক অপরাধের কথা উল্লেখ আছে । একটা খুনের অপরাধের কথা দিয়েই গল্পের শুরু । ভিখু ডাকাত । দলবল নিয়ে মানুষের গৃহে হামলা করে টাকাপয়সা , গহনা কেরে আনাটাই তাঁর পেশা ।  এই উদ্দেশ্যই বৈকন্ঠ সাহার গদিতে ডাকাতি করতে গিয়েছিল । কিন্তু দল শুদ্ধ ধরা পড়ে যায় , কেবল ভিখুই কাঁধে জখম নিয়ে পালিয়ে এসেছে । এই ডাকাতিতে সাহা বাড়ির মেজো কর্তা কে সে খুন করে এসেছে ।


[      ] এই খুনি ডাকাত , আহত ভিখু কে বাঁচতে সাহায্য করে পেহলাদ বাগদি । একটু সুস্থ হয়েই সে  পেহলাদের বউয়ের হাত ধরে টানে । এই অপরাধে ক্ষুন্ন পেহলাদ আর ভরত ভিখু কে প্রহার করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় । অকৃতজ্ঞ ভিখু রাত্রে পেহলাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে রাতারাতি নৌকা করে অনেক দূরে পালিয়ে যায়।  


[      ] এরপর শুরু হয় ভিখুর ভিখারির জীবন । এ জীবন তার বিড়াম্বনা , তৃপ্তিহীন ।  বসে বসে সে তার খুশির দিনের কথাগুলো স্মরণ করত । তার মধ্য দিয়েই তা ভয়ঙ্কর অপরাধগুলোর একটা তালিকা পেয়ে যায় ।


১) বহুবার ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে একবার । সঙ্গী রাখু বাগদীর সঙ্গে শ্রীপতি  বিশ্বাসের বোন কে চুরি করেছিল ।


২) এই অপরাধে ধরা পড়ে সাত বছরের জেল হয় । কিন্তু জেলের প্রাচীর ডিঙিয়ে পালায় ।


৩) গৃহস্থ বাড়ির বেড়া বা দেয়াল কেটে চুরি করেছে ।


৪) অকর্মের সঙ্গী রাখুর বউকে নিয়ে একবার সমুদ্র পেরিয়ে হাতিয়ায় পালিয়ে গিয়েছে । দুমাস সেখানে কাটাবার পর বউটাকে ফেলে একাই চলে এসেছে ।


৫)  তারপর থেকে দল গঠন করে কত ডাকাতি আর খুন করেছে । কি জীবন ছিল আর আজ সে ভিখারী হয়েছে । শুধু ডান হাতটা নেই বলে । ভিখুর শেষ গুরুতর অপরাধ হল ভিখারিনী পাঁচিকে রাখনি হিসেবে পাওয়ার জন্য বসির মিঞা কে হত্যা করে তার সঞ্চিত অর্থ আত্মসাৎ করা ।


রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১

প্রাগৈতিহাসিক অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক প্রাগৈতিহাসিক অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর bengali honours progoitihasik oti songkhipto questions answer


                   প্রশ্নের মান :- ১/২




১। "  সমস্ত বর্ষাকালটা ভিখু ভয়ানক কষ্ট পাইয়াছে ।"  ভিখু কে ? সে কষ্ট পেয়েছে কেন ?



উত্তর:- "  সমস্ত বর্ষাকালটা ভিখু ..।" ভিখু প্রাগৈতিহাসিক গল্পের প্রধান চরিত্র । সে ডাকাত দলের সদস্য । ডাকাতি করতে গিয়ে খুন করে জখম হয়ে মরন এবং পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বিনা চিকিৎসায় লুকিয়ে থেকে ঘা নিয়ে কষ্ট পেয়েছে ।



২। " জানাজানি হইয়া গেলে আমি কনে যামু ?  খুন টা যদি না করতিস " কে কাকে একথা বলেছে ? সে কাকে খুন করেছে ?



উত্তর:- " জানাজানি হইয়া গেলে আমি কনে যামু ?..." কথাটা পেহলাদ বাগদী বলেছে ভিজ্য । ভিখু দলবল নিয়ে বসন্তপুরের বৈকণ্ঠ সাহার গতিতে ডাকাতি করতে গিয়ে সেখানে খুন করে বসে সাহা বাড়ির মেজ কর্ত্তা কে ।



৩। ভিখু শেষবার ডাকাতি করতে যায় কোথায় ? সেটা কোন মাস ছিল ?  তাদের দলে কতজন ছিল ? 



উত্তর:- ভিখু শেষবার ডাকাতি করতে যায় বসন্তপুরের বৈকুন্ঠ সাহার গদিতে । সেটা ছিল আষাঢ় মাস । ভিখুর দলে ছিল এগারো জন ।



৪। আহত ভিখু আশ্রয় নিতে এলে পেহলাদ তাকে কোথায় রেখেছিল ? কেন ?



উত্তর:- আহত ভিখু আশ্রয় নিতে এলে পেহলাদ  তাকে জঙ্গলের মধ্যে বাঁশের মাচা করে তাতে রেখেছিল । খাবার জন্য কিছু চিড়ে গুর জল  দিয়েছিল । ভিখু খুনের আসামি ছিল । পুলিশ তাকে খুঁজবেই । যদি পেহলাদের বাড়িতে পায় তাহলে পেহলাদেও বিপদে পড়তে হবে । এজন্যই সে কিছুদিন ভিখু কে জঙ্গলে লুকিয়ে লুকিয়ে রেখেছিল । পরে অবশ্য ঘরে আশ্রয় দিয়েছিল ।



৫। " এমন নেমকহারাম মানুষটিকে একেবারে খুন করিয়া ফেলায় কর্তব্য ।" নেমকহারাম কাকে বলা হয়েছে ? কেন ?



উত্তর:- " এমন নেমকহারাম মানুষটিকে ...।" এখানে নেমকহারাম বলা হয়েছে ভিখুকে । এ আহত মৃতপ্রায় ভিখু কে জঙ্গল থেকে বাড়িতে এনে তার সুস্বাস্থ্য ও খাবারের ব্যবস্থা করে তাকে বেঁচে উঠতে সাহায্য করে পেহলাদ । সেই পেহলাদেরই বউকে সে বে ইজ্জৎ করতে যায় । তাই সে নেমকহারাম । 



৬। " হায় সর্ব্বনাশ হায় সর্ব্বনাশ ! ঘরকে আমার শনি আইছিল ।" বক্তা কে ? শনি কাকে বলা হয়েছে ? কেন ?



উত্তর:- " হায় সর্ব্বনাশ হায় সর্ব্বনাশ ।" কথাটার বক্তা পেহলাদ বাগদী । শনি বলা হয়ে হয়েছে ভিখু কে । যে পেহলাদ ভিখু কে বেঁচে উঠতে সাহায্য করে , তারই বউকে সে বে ইজ্জৎ করতে যায় । এতে ক্ষুদ্র পেহলাদ ভিখু কে তাড়িয়ে দিলে রাত্রে এসে সে পেহলাদের ঘর জ্বালিয়ে দেয় । তাই তাকে শনি বলেছে ।



৭। " কোর্টের ডান দিকের হাতটি সে তাই বগলের কাছ হইতে ছিঁড়িয়া বাদ দিয়াছে ।" কে , কেন এমনটা করেছে ?



উত্তর:- "  কোর্টের ডানদিকের হাতটি সে বাদ দিয়াছে..।" প্রাগৈতিহাসিক গল্পে ভিখু এমনটা করেছে । এক সময় ডাকাতি করতে গিয়ে ডান কাঁধে আঘাত পেয়ে মারাত্মক আহত হয় ভিখু ।বেঁচে গেলেও তার ডান হাতটা শুকিয়ে দড়ির মতো হয়ে যায় । আঘাতে চিহ্নটা গোপন করার প্রয়োজন থাকলেও শুকনো হাতটা ভিক্ষায় বিজ্ঞাপনের কাজ করে । তাই , হাতটা বিজ্ঞাপিত করার জন্যই এমনটা করেছে ।




৮। ভিখারী ভিখুর মনে ধরে যে মেয়েটি তার নাম কি ? তার চেহারা কেমন ?



উত্তর:- ভিখারী ভিখুর মনে ধরা মেয়েটির নাম পাঁচি । তার চেহারা মন্দ নয় । বয়স বেশি নয় , দেহের বাঁধুনিও বেশ । কেবল একটা পায়ে হাঁটুর নীচে থেকে তৈলাক্ত ঘা ভিক্ষা সহায়ক বিজ্ঞাপন ।



৯। পাঁচি কে রাখনি হিসেবে পেতে ভিখু কাকে  কিভাবে খুন করে ?



উত্তর:- পাঁচি কে রাখনি হিসেবে পেতে ভিখু বসির মিয়া কে খুন করে মাথার ব্রহ্মতালুতে একটা চোখা লোহার শিক ঢুকিয়ে দিয়ে এবং গলা টিপে ধরে ।




১০। বসির মিয়াকে খুন করে ভিখু তার সঞ্চিত অর্থ উদ্ধার করে তাতে কত টাকা ছিল ? সেই টাকার সন্ধান কে দেয় ? 

 


উত্তর:- বসির মিয়াকে খুন করে ভিখু তার সঞ্চিত অর্থ উদ্ধার করে পায় টাকায় আধুলিতে মিলে একশত টাকার ওপর । তাকে সেই টাকার সন্ধান দেয় পাঁচি ।



১১। পা চলা পাঁচি, এক ক্রোশ পথ হাঁটন লাগব "  বক্তা কে ? কিভাবে তারা এতটা পথ যায় ?


উত্তর:- বক্তা ভিখু । পাঁচি কে পিঠে নিয়ে ভিখু এতটা পথ পথ যায় ।