শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

তাঁর বাড়ী চিনি , তাঁর ছোট খোকাটিকেও চিনি , কিন্তু তাঁকে এখনও দেখিনি ।কে কার সম্পর্কে এ কথা বলেছে । বক্তার চরিত্রের পরিচয় দাও প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক তাঁর বাড়ী চিনি , তাঁর ছোট খোকাটিকেও চিনি কিন্তু তাঁকে এখনও দেখিনি কে কার সম্পর্কে একথা বলেছে বক্তার চরিত্রের পরিচয় দাও tar bari chini tar choto khokatikeo chini kintu take akhono dekhini ke kar sompoke akotha boleche boktar choritrorer porichoy dao


                    প্রশ্নের মান ৫/৬




প্রশ্ন : " তাঁর বাড়ী চিনি , তাঁর ছোট খোকাটিকেও চিনি , কিন্তু তাঁকে এখনও দেখিনি ।" কে কার সম্পর্কে এ কথা বলেছে ? বক্তার চরিত্রের পরিচয় দাও ।



উত্তর:- " তাঁর বাড়ী চিনি , তাঁর ছোট খোকাটিকেও চিনি ..." কথাটির বক্তা নজরবন্দী যতীন । দেবনাথ ঘোষের সম্পর্কে একথা বলেছে দেবনাথকেই ।


[      ] দেবনাথ তুচ্ছ কারণে জেলে যাবার পর যতীন শিবকালীপুরে আসে । তাকে এ গাঁয়ে অনিরুদ্ধ কামারের বাড়িতে নজর বন্দী করে রাখা হয় । যতীন দেশ প্রেমিক , হৃদয়বান , মানবতা সম্পন্ন , পরোপকারী এক যুবক । শোষিত , পীড়িত মানুষের স্বার্থে আন্দোলন করে , শাসক বিরোধী কথাবার্তা বলে , তাই তার কার্যকলাপে রাজদ্রহিতার গন্ধ পেয়ে সরকার তাকে শহর থেকে গ্রামে এনে এনে নজরবন্দী করে রাখা হয়েছে । যে মানুষকে ভালোবাসে, মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থাকতে চায় , সে গ্রামে এসেও তাই ই করবে । যতীনও তাই করেছে । গ্রামের যারা সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য তৎপর , সেই জগন ডাক্তার , দেবু পন্ডিত , হরেন্দ্র ঘোষাল , দ্বারকা চৌধুরী এদের সঙ্গে যতিনের বেশ সু সম্পর্ক গড়ে উঠেছে । অনিরূধের ছন্নছাড়া পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করে । পদ্ম কে মায়ের সম্মান দিয়ে " মামনি " সম্বোধন করে । মানুষের সমস্যায় সত্যপরামর্শ দেয় । যতীন শুধু শিক্ষিত নয় , রুচিবান । তবে গ্রাম্য , রুচিহীন , দরিদ্র মানুষকে সে ঘৃনা করে নি । তাই গ্রামবাসীদের সে আপন জন হয়ে উঠতে পারে । শুধু শ্রীহরি ঘোষ তাকে সহ্য করতে পারেনি । কারণ শ্রীহরি যাদের জব্দ করে গ্রামের একচ্ছত্র ক্ষমতাবান হতে চেয়েছিল , যতীন তাদেরই সঙ্গে যোগ দিয়েছিল । তার পরামর্শে বিরোধী দল শক্তিশালী হচ্ছে , আন্দাজ করেই উপর ওয়ালাদের বলে কয়ে শ্রীহরি এ গ্রাম থেকে যতীন কে সরাবার চেষ্টা করে । তাই , অসহায় পদ্ম মামনিকে ছেড়ে গ্রাম বাসীদের ছেড়ে তাকে চলে যেতে হয় । রবীন্দ্রভক্ত যতীন মনে শক্তি পাবার জন্য রবীন্দ্র কবিতা আবৃত্তি করত । যাবার দিনেও মনে বেদনা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করতে করতে চলে যায় ।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন