সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১

ভাতের গন্ধ বড় ভালো গন্ধ সাধনের এই ভাত প্রীতির কথা মনে রেখে তাঁর চরিত্রটি আলোচনা করো প্রশ্নোত্তর

 

বাংলা অনার্স সাম্মানিক bengali honours ভাতের গন্ধ বড় ভালো গন্ধ  সাধনের এই ভাত প্রীতির কথা মনে রেখে তাঁর চরিত্রটি আলোচনা করো প্রশ্নোত্তর vater gondho boro valo gondho sadhoner ai vat pritir kotha mone rekhe tar choritro ti alochona koro


উত্তর:- মহাশ্বেতা দেবী “ সাঁঝ সকালের মা ” গল্পের অন্যতম চরিত্র সাধনের কাছে ভাতের গন্ধ বড় ভালো গন্ধ । সে খানিকটা পেটুক ।  খিদে সহ্য করতে পারে না । খাও বেশি ।  তাঁর খাওয়ার খোরাক যোগার করত তার মা জটি ঠাকুরনী হয়েছিল । মানুষকে পাপ মুক্তির আশীর্বাদ করে ,  সান্ত্বনা দিয়ে , ওষুধ দিয়ে জটি ঠাকুরনী  টাকা কড়ি নিত না , কেবল  এক পালি করে চাল নিত । সেই চাল সে ছেলের জন্য রাঁধতে বসত রাতের বেলা । দিনের বেলা জটি সাধন কে কাছে আসতে বারণ করত । সাঁঝ থেকে সে হত সাধনের মা । মা যখন ভাত রাঁধত তখন পেটুক সাধন গরম ভাতের গন্ধ টাকেও উপভোগ করত । 


[     ] জটি অসুস্থ এবং মৃত্যু পথযাত্রী হলে সাধনের ভাত জোটেনি । জটি তাকে রেঁধে খাওয়াতে পারেনি । হাসপাতালে থাকার সময় সরল সাদা  হাবাগোবা সাধন ডাক্তারবাবুকে বলেছে দিনের বেলা তার মা খায় না । তার মায়ের ভাগের ভাত টা যদি তাকে দেওয়া হয় । ডাক্তারবাবু নিয়ম ভেঙে সেটা করতে চাননি ।


[    ] জটি মারা যাবার পর সাধনের খাওয়ার সমস্যাটাই বড় হয়ে ওঠে । জটিকে ভক্তবৃন্দ চাল দিত । জটির অবর্তমানে চাল জুটবে কোথা থেকে ? জটির শ্রাদ্ধর যে চাল দেওয়া হয়েছিল , সেটা সাধন পুরোহিত কে না দিয়ে নিজে গুছিয়ে বেঁধে নিয়েছে । বলেছে “ চাল নিয়ে যাই , ভাত আধব ।” হরাদের চাল নিতে নেই বললেও সে শোনেনি । “ মত্ত হাতির মতো চেঁচিয়ে উঠল সাধন । বলল ঘরে কানাকড়ি লাই যে ই চাল কিনে আধব । চাল আমি হাত ছাড়া করি ।” চাল নিয়েই সে বাড়ি যায় । এতদিন মায়ের রাঁধা ভাতের গন্ধে সে তৃপ্ত হতো , আজ নিজের রাঁধা ভাতের গন্ধে সে তৃপ্ত হবে । একজন ক্ষুধার্ত , পেটুক মানুষের চরিত্রকে সার্থকতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সাধনের চরিত্রের মধ্যে দিয়ে ।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন